Skip to main content

Alekh

দেরাদুন খুব ছোট শহর। বেশ সাজানো। বর্ষা কাল , তাই মেঘেরা আদর করে ছুঁয়ে আছে পাহাড়ের গা।
পাহাড় ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আমার তেমন নেই। ছোটবেলা পুনে তে গিয়েছিলাম। পাহাড় ছুঁয়ে মনে হয়েছিল তেমন মমতা পাহাড়ের নেই, সে বড়ই রুক্ষ। তখন থেকে মনে মনে ভাবতাম পাহাড় ভালোবাসে না, বাসতে পারেনা। দেরাদুন এ এসে সে ধারণা গিয়েছে বদলে। কেমন সবুজ চিরহরিৎ পাহাড় মায়াময়, শহরটাকে বেঁধে বেঁধে রেখেছে। ‘চাঁদনী’ সিনেমার সেই গানটা মনে পড়ে যাচ্ছিল ‘তেরে মেরে হোঁট পে মিঠে মিঠে গীত মিত্ওয়া!’তার আগের সেই মাতাল করা পাহাড়িয়া সুর সমস্ত পাহাড়কে লেপটে আছে। গাড়ি চলছে নিজের ছন্দে। অধিকাংশ সময়ে বৃষ্টি।পায়ে হেঁটে যাওয়া হল না কোথাও। তবু এই পথ চলাতেই আনন্দ। সহস্রধারায় জল উচ্ছ্বসিত। বর্ষায় আনন্দের সীমা নেই।
কোথাও বা পাহাড়ি ধ্বস। এর মধ‍্যেই বেশ অনেকটা জায়গা জুড়ে দুন ইস্কুল।‌এমন‌ মেঘের বিষাদেও শিশু গুলো ফুলের মত। ইস্কুলের গেটে দাঁড়িয়ে হাসছে, গায়ে রঙিন বর্ষাতি। রোদের আর কি প্রয়োজন?এমন উজ্জ্বল মুখ গুলোই তো ছড়িয়ে আছে ‘দুন’ জুড়ে!!!! কেমন
যেন পাহাড়ের ফুলের মত। নিজের শহরে এসেও ভেবেছি, কেমন আছে তারা???

 

#পাকদন্ডী

এই শব্দটা আমার বেশ প্রিয়! ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘তিতলি’ ছবির সেই গানটা ‘মেঘ পিওনের ব‍্যাগের ভিতর….’ থেকে শব্দটা আবিষ্কার করেছি আমি। মুসৌরি যাওয়ার পথে গানটা শুনছিলাম বেশ কয়েকবার!!! পাকদন্ডী পথ বেয়ে উপরে ওঠার সময়ে ভাবছিলাম “এই বুঝি মেঘপিওনের বাড়ি খুজে পাবো”!বৃষ্টিরা ছুটি নিলেও, মেঘেদের ভেসে বেড়ানোর বিরাম নেই।পাইন গাছ গুলো সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে। গাড়ির কাচ খুলে দিতেই পাইন গাছের আড়াল থেকে মেঘগুলো ভেসে এল গাড়ির ভিতর।বোধ হয় নতুন আস্তানা‌ পেয়ে তারা বেশ খুশি। পাহাড়ে ওঠার রাস্তা বেশ চড়াই। পায়ে হেঁটে গেলে বেশ সন্তর্পণে পা ফেলতে হয়। শীতল নয়, তবে তাপমাত্রা বেশ আরামদায়ক। অনেকের গায়ে জ‍্যাকেট। মল রোডে দৈনন্দিন বিকিকিনি। পায়ে হাঁটলে বোঝা যায়, পাহাড়ের পথ কেটেই বসতি। হোটেল থেকে গিয়েছিলাম লাল টিব্বা। শুনলাম মুসৌরির ওটাই উচ্চতম স্থান। মানুষজন কম। আসলে পাহাড়ের এখন অভিমানের সময়, ইংলিশে যাকে বলে ‘অফ্ সিসন’! মেঘের কোলে রোদ না হাসলে লাল টিব্বা থেকে ‘কেদার বদ্রী’ দেখতে পাবোনা। অগত‍্যা ফিরতে হল।রাস্তায় ম‍্যাগির দোকান থেকে ধোঁয়া উঠছে, কুয়াশার মত মেঘে মিলিয়েও যাচ্ছে। সন্ধ‍্যার পর পাহাড়ে তেমন আবেগ থাকেনা। ঝিরি ঝিরি বৃষ্টির শব্দ তখন ঘন অন্ধকারের সঙ্গী। ফিরে আসার দিন রোদ উঠলেও, মনের ভিতর তখন বিচ্ছেদের মেঘ বেশ জাঁকিয়ে বসেছে।

By Alekh

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *