একদিকে অতিমারির দুর্যোগ, অন্যদিকে নির্বাচন-পরবর্তী দলীয় রাজনীতির প্রবল প্রতাপ —এই দুইয়ের টানাপোড়েনে্র মধ্যে দাঁড়িয়ে আমরা স্মরণ করছি রবীন্দ্রনাথকে, যিনি সবসময় আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন যে তিনি কোনো প্রফেট নন, তিনি একজন কবি, এই তাঁর একমাত্র পরিচয়। তবু তো আমরা জানি তিনি শুধু দেখতেই প্রফেটের মতো ছিলেন না, আমাদের জন্য রেখে যাওয়া তাঁর কথার মধ্যে এমন অনেক কিছুই পাই যাকে প্রফেটিক না বলে উপায় নেই। তা না হলে ১৬০ বছর পেরোনো একজন কবির কথা কেন আমরা স্মরণ করছি? এর অর্থ, তিনি শুধু কবি ছিলেন না, তাঁর সমস্ত রচনার মধ্যে যে মানবিকতা, সংবেদনশীলতা ও দূরদৃষ্টির পরিচয় আমরা পাই তাতে এ কথা সহজেই বলা যায় যে তিনি কবি কিন্তু মানবিকতার কাছে সমর্পিত এক কবি। প্রাথমিক দীক্ষা উপনিষদে, যা তাঁকে এগিয়ে যাওয়ার সংকল্প জুগিয়েছে। তিনি পরে জেনেছেন বুদ্ধের করুণা, বাঊলের মৈত্রীসাধনা, বৈষ্ণবের প্রেমসংগীত এবং ইউরোপীয় জীবনের শৃঙ্খলা। পরাধীন দেশে স্বাধীনতার ভাবনা যখনই তাঁর স্নায়ুতন্ত্রীতে ঢেউ তুলেছে, তখন রাজনীতিকেও সাময়িকভাবে আশ্রয় করতে দ্বিধা করেননি। সঙ্গে সঙ্গে এ কথা বলা দরকার যে কোনো রাজনৈতিক মতবাদ কখনও তাঁকে আকর্ষণ করেনি, তাঁর ঝোঁক ছিল ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির আলোয় উদ্ভাসিত আদর্শের প্রতি। তা ছিল এক গভীর ধর্মবোধ। এত নিবিড়ভাবে দেশকে ভালো ভালোবেসেছিলেন তিনি অথচ এই দেশ তাঁর কাছে কোনো ভৌগোলিক সত্তামাত্র ছিল না। যিনি দেশে দেশে নিজের ঘর খুঁজেছেন, তাঁর কাছে মানুষের মুক্তিই ছিল প্রধান লক্ষ্য। এই মুক্তি বৃহত্তর ব্যঞ্জনাধর্মী— মুক্তি ভয় থেকে, অবিশ্বাস থেকে, ও তাসের দেশের নিয়মকানুন থেকে।
স্বদেশিয়ানায় বালক রবীন্দ্রনাথের হাতেখড়ি হয়েছিল হিন্দুমেলায়, যাকে তিনি পরে বলেছিলেন ‘উত্তেজনার আগুন পোহানো’। ঠাকুরবাড়ির আনুকূল্যে গঠিত হিন্দুমেলায় ১৮৭৫ সালে রবীন্দ্রনাথ রচনা করেছিলেন ‘হিন্দুমেলার উপহার’ নামের একটি কবিতা। আর একটি গুপ্তসভায় যোগ দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ, সে হল সঞ্জীবনী সভা। ঠনঠনের এক পোড়ো বাড়িতে রাজনারায়ণ বসু, জ্যোতিরিন্দ্রনাথ প্রমুখ সদস্যরা মিলিত হতেন এবং দেশোদ্ধারের অঙ্গীকার গ্রহণ করতেন। এই সভার জন্য রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন—‘একসূত্রে বাঁধিয়াছি সহস্রটি মন, এককার্যে সঁপিয়াছি সহস্র জীবন’ গানটি। সে ছিল স্বাদেশিয়ানা শুরুর যুগ। পরে কেমন ছিল রবীন্দ্রনাথের স্বাদেশিয়ানা? এই সময়ের ভাবনা রক্ষিত আছে তাঁর ‘ইংরেজের আতঙ্ক’, ‘সুবিচারের অধিকার’, ‘রাজা ও প্রজা’, ‘রাজনীতির দ্বিধা’ ইত্যাদি প্রবন্ধে। ১৮৯৭ সালে তাঁর নেতৃত্বে ‘তরুণ দল’ সভার কাজ বাংলাভাষাতে করিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। ঠিক পরের বছর ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রাদেশিক সম্মেলনে দেশীয় পোষাকে হাজির হয়ে তিনিই প্রথম বাংলা ভাষায় সভাপতির ভাষণ দিয়েছিলেন। এরই প্রবল প্রকাশ আমরা দেখছি ১৯০৫ সালে, বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময়। বঙ্গবিভাগের প্রতিবাদে খালি পায়ে রাস্তায় হেঁটেছেন রবীন্দ্রনাথ আর গেয়েছেন—‘বাংলার মাটি বাংলার জল পুণ্য হোক পুণ্য হোক হে ভগবান’। তাঁর জাতীয়তাবাদী চেতনা কোনো ধর্মানুসারী ছিল না, তা ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত। এখানে স্মরণ করতে পারি ‘ভারততীর্থ’ কবিতাটিকে। দেশের হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টানই শুধু নয়, এই ভারততীর্থে ইংরেজকেও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এই উদারতার শিক্ষা পেয়েছিলেন ভারতবর্ষের ইতিহাস থেকেই। ভারতবর্ষের মর্মোদঘাটন করে তিনি আমাদের দেখিয়েছেন—“প্রভেদের মধ্যে ঐক্যস্থাপন, নানা পথকে একই লক্ষ্যের অভিমুখীন করিয়া দেওয়া এবং বহুর মধ্যে এক-কে নিঃসংশয়রূপে অন্তরতররূপে উপলব্ধি” করাই ছিল ভারতের চিরকালের সাধনা।
—You cannot go on violating these laws in the name of the name of your nation, yet enjoy their advantage as individuals। ৯ অগস্ট নিউ ইয়র্কের ‘Outlook’ পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের লিখিত ভাষণের প্রতিলিপি পাঠ করে নিজের ভাবনার সাযুজ্য খুঁজে পেয়েছেন রম্যাঁ রলাঁ। তাঁর ‘ভারতবর্ষ’ ডায়েরিতে তিনি ভাষণের একটা বড়ো অংশ লিখে রাখলেন। ইউরোপীয় সভ্যতার খারাপ দিকগুলো সম্পর্কে প্রাচ্য সচেতন হয়ে উঠছে এ ধারণা স্পষ্ট হল তাঁর। বক্তৃতাটি যে ‘পৃথিবীর ইতিহাসে একটি বাঁককে চিহ্নিত করছে’ তাও স্পষ্টভাবে লিখেছেন রলাঁ।
১৯১৬ সালে জাপানে গিয়ে ইউরোপের উগ্র অনুকরণ ভালো চোখে দেখেননি তিনি। টোকিয়োর ইম্পিরিয়াল ইউনিভার্সিটিতে রবীন্দ্রনাথ তাঁর The Message of India to Japan– শিরোনামের একঘন্টার ভাষণে বলেছিলেন—পুরোনো প্রাচ্যসংস্কৃতির ধারক হলেও জাপান আধুনিক সভ্যতার দাবি পূরণে সমর্থ হয়েছে। জাপান পাশ্চাত্য সংস্কৃতির কাছ থেকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মতো অনেককিছু গ্রহণ করেছে, কিন্তু নিজের আত্মাকে হারিয়ে যন্ত্রে পরিণত হয়নি। তাই জাপানের দিকে তাকিয়ে আছে পৃথিবী। কিন্তু শুধু পাশ্চাত্যের অনুকরণেই জাপান তার সাফল্যকে ধরে রাখতে পারবে না, পাশ্চাত্য সভ্যতা মানবিক দিকগুলোকে অবহেলা করে রাজনীতিকে বড়ো করেছে, এবং এক রাজনৈতিক সভ্যতা হয়ে উঠেছে—যা বৈজ্ঞানিক কিন্তু মানবিক নয়। এই বক্তৃতার সূত্রেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন ফরাসি মনীষী রম্যাঁ রলাঁ, আর তাঁদের বন্ধুত্ব দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আবহে রলাঁর মতো রবীন্দ্রনাথও মনে করেছেন উগ্র জাতীয়তাবাদই এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের বিবাদের কারণ হয়েছে। ইতালি ও জার্মানির উগ্র জাতীয়তার চেতনাই যে সেসব দেশে একনায়কতন্ত্রের পথ সুগম করেছিল, তা তাঁর পক্ষে অনুমান করা কঠিন হয়নি।
জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ড রবীন্দ্রনাথকে পুনরায় রাজনীতির আলোয় এনেছে। কিন্তু নাইট খেতাব ত্যাগ করার পরই যেন মনের ভার লাঘব করেছেন। চেমসফোর্ডের কাছে তাঁর সেই বিখ্যাত পত্রটি লেখার পরই তিনি রাজনীতির সংশ্রবহীন হয়ে লিপিকার কবিতা রচনায় মনোনবেশ করেছেন। গান্ধিজির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সম্পর্ক গান্ধিজি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফেরার পর থেকেই এবং তাঁদের বন্ধুত্বও সুবিদিত। কিন্তু অসহযোগ ও বিদেশি দ্রব্য বর্জন রবীন্দ্রনাথের মনঃপূত হয়নি। রবীন্দ্রনাথের প্রিয় বিষয় ছিল প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সমন্বয় সাধন। তাই তাঁর মনে হয়েছিল অসহযোগ নয়, বরং সমন্বয় এবং বয়কট নয় গ্রহণই পথ। চিঠিপত্রে ও প্রবন্ধে তাঁরা তর্ক করেছেন, মতের ভিন্নতা স্বীকার করেছেন।কিন্তু এ ভিন্নতা ছিল দার্শনিক ভাবনার মৌলিক পার্থক্যের অন্তর্গত, বৌদ্ধিক, জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যের। এ কারণে ব্যক্তিগতস্তরে তাঁদের মধ্যে কখনও শ্রদ্ধার অভাব ঘটেনি। দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে উভয়ের লক্ষ্য ছিল অবিচল। ১৯১৯ থেকে ১৯৪১ পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ ও গান্ধিজি নিয়মিত সংযোগ রক্ষা করে চলেছেন। ব্যক্তিগত, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে তাঁরা বিতর্ক করেছেন। একে অপরের যুক্তির বিরুদ্ধে নিজের মত উপস্থাপিত করেছেন, কিন্তু কখনও সে বিতর্কে তিক্ততা ছিল না, সৌজন্য ও শ্রদ্ধার অভাব ঘটেনি। রবীন্দ্রনাথ তাঁকে ডেকেছেন মহাত্মা নামে, আর তিনি ডেকেছেন গুরুদেব।
রবীন্দ্রনাথের কাছে এ দেশ কোনো ভৌগোলিক এলাকা নয়, একটা ধারণামাত্র। তাঁর মতে, পাশ্চাত্যের জাতীয়তাবাদ সংক্রান্ত ধারণার পরিচয় এ দেশে কখনও ছিল না। সমাজই ছিল ভারতীয় সভ্যতার মূল, যেমন রাজনীতি পাশ্চাত্য সভ্যতার মূল। জাতীয়তার পরিবর্তে রবীন্দ্রনাথ ব্যবহার করেছেন ‘স্বদেশী সমাজ’। তাঁর মতে, জাতি সমাজকে গ্রাস করে বেড়ে ওঠে। ভারতের ঐক্য কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, তা এক সামাজিক সত্য। তিনি বলেছেন : “রাষ্ট্রপ্রধান দেশে রাষ্ট্রতন্ত্রের মধ্যেই বিশেষভাবে বদ্ধ থাকে দেশের মর্মস্থান; সমাজপ্রধান দেশে দেশের প্রাণ সর্বত্র ব্যপ্ত হয়ে থাকে… পাশ্চাত্য রাজার আসনে এইখানে ভারতবর্ষ আঘাত পেয়েছে। গ্রামে গ্রামে তার যে সামাজিক স্বরাজ পরিব্যাপ্ত ছিল, রাজ্য শাসন তাকে অধিকার করলে” (স্বদেশী সমাজ)। তাঁর আরও বিশ্বাস যে ‘নেশন স্টেট’ শুধু সমাজকে গ্রাস করে না, তার ভিতরে আত্মবিধ্বংসী ও হিংস্র প্রবণতা আছে বলে ব্যক্তি-স্বাধীনতা হরণ করে। সর্বজনীন ও বিশ্বকেন্দ্রিক ভাবনার জন্যই তিনি ঔপনিবেশিক শক্তির হাত থেকে ভারতের স্বাধীনতা চেয়েছেন যাতে রাজনৈতিক বিচার ও সাংস্কৃতিক মর্যাদার পথ সুগম হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তাঁর ধারণা জন্মেছিল যে অন্ধ জাতীয়তাবাদের মধ্যেই সমস্ত দ্বন্দ্ব ও শত্রুতার বীজ নিহিত আছে। একইভাবে দেশপ্রেমও নেশন-স্টেট উদ্ভুত ধারণা যা নাগরিকের কাছে রাষ্টের প্রতি প্রশ্নহীন আনুগত্য দাবি করে, এমনকি, রাষ্ট্র দেশপ্রেমের নামে মানবিকতাবিরোধী কাজ করলেও এ দাবি অটুট থাকে। নাতসি জার্মানির ক্ষেত্রে এমনটাই ঘটতে দেখা গেছে। রবীন্দ্রনাথের ভাবনা থেকে জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের ধারণাকে বর্তমানের প্রেক্ষিতে বিচার করলে তাঁর দূরদৃষ্টির প্রতি সপ্রশংস হতেই হয়।
গান্ধিজির সঙ্গে এইখানে রবীন্দ্রনাথের মিল দেখতে পাই। তিনিও দেশের ঐক্যের জন্য সমাজকেই শক্তিশালী দেখতে চেয়েছেন। গ্রামীণ সমাজ মানে আত্মীয়সমাজ, প্রতিবেশীসমাজ। রাষ্ট্র কিন্তু আত্মীয়তা বোঝে না, সে এক হৃদয়হীন যন্ত্র। গান্ধিজিরও এমনই উপলব্ধি। তিনি বলেছিলেন : The individual has a soul, but the state is a soulless machine’। দেশ থেকে রবীন্দ্রনাথ পৃথিবীর দিকে চোখ রেখেছেন একই আত্মীয়তার সন্ধানে। বিশ্বমানবতার কাছেই তাঁর আবেদন। জ্ঞান বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির জগতে তিনি সত্যের সন্ধান পান। কিন্তু যখনই রাষ্ট্র ও জাতীয়তার কথা উঠেছে, তাঁর মনে হয়েছে সত্যের অভাব থেকে গেছে। গান্ধিজি কিন্তু জাতীয়তাবাদে আস্থা রেখেছেন; তাঁর মতে আগে জাতীয়তাবাদ তারপর আন্তর্জাতিকতাবাদ।
১৯৩৬ সালে সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারার দিনে ব্যথিত রবীন্দ্রনাথের মনে হয়েছিল—‘এই মোহমুগ্ধ ধর্ম বিভীষিকার চেয়ে সোজাসুজি নাস্তিকতা অনেক ভালো’। অচলায়তনের প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মতন্ত্রে তিনি নিয়ে আসেন মুক্ত আলোর দূত পঞ্চককে, মনের জানালা খুলে যেতে থাকে। ধনতান্ত্রিক রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের শোষণ ও আস্ফালনের রূপ তিনি দেখান ‘রক্তকরবী’তে। একদিকে রাজার শাসন, অন্যদিকে শ্রমজীবী সাধারণ মানুষ। সাধারণ মানুষ হারিয়ে ফেলেছে তাদের মনুষ্য পরিচয়। যক্ষপুরীতে তারা হয়েছে খনি শ্রমিক। তাদের পরিচয় শুধু সংখ্যামাত্র। রাজাও কি ধনতান্ত্রিক উৎপাদন ব্যবস্থায় ক্লান্ত? তাই তিনি জীবন-বিচ্ছিন্ন? সমাজ রাজার মনে যে বন্ধন চাপিয়েছে তার হাত থেকে তাঁরও মুক্তি নেই। মুক্ত বাতাস হয়ে প্রবেশ রঞ্জনের। সে বিপ্লবের প্রতীক। তাঁর প্রণয়িনী নন্দিনী রাজার জড়ত্বের জাল ছিন্ন করছে। সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার প্রতি কি পক্ষপাত দেখালেন রবীন্দ্রনাথ?
আসলে কোনো মতবাদ, রাষ্ট্রীয়, সামাজিক বা দার্শনিক বিশ্বাসের কাছে নিজেকে আবদ্ধ রাখার মানুষ তিনি নন। মতবাদের চেয়েও বড়ো তিনি—আমাদের বৌদ্ধিক ও আত্মিক মুক্তির সহায়ক। তাঁর দূরদৃষ্টি, চেতনা ও প্রফেটিক উচ্চারণ আমাদের পথপ্রদর্শক হয়ে আছে।