Alekh

কখনো কখনো চারপাশ দেখে ভাবি আমরা এক আশ্চর্য্য হতোদ্যম মুহূর্তে বাস করছি। অনাহুত মৃত্যুমিছিল, বাস্তবের এক রংচটা, ধূসর হওয়া জোকারের মুখের বলিরেখার ফাঁকে পিঁপড়ের মতো নিঃশ্বাস নিচ্ছি, কেউ কেউ বলছে টাইমবম্ব, কারোর দীর্ঘশ্বাসে হয়তো বিদেশী সিনেমায় দেখে থাকা বায়বীয় কোনো ধকলের মধ্যে পড়ে পিষে যাবো, আবার কারোর কারোর মনের সামঞ্জস্যের সাথে তাল মিলিয়ে উঠে আসছে ফিউচার জোম্বিল্যান্ড নিয়ে কত কথা। জলের উপর বুদ্বুদ না ছায়া, তিরতির করে কাঁপতে থাকা পানকৌড়ি মুহূর্তগুলো ডুব দিয়ে উঠেই আবার ভুস করে মিলিয়ে যাচ্ছে-কোথায়? ওই যে, নবারুণ ভট্টাচার্য্য তাঁর ‘অতন্দ্র বিমান’- কবিতায় বলেছেন,

“নিলাম হয়ে যাওয়া আকাশে
বিষণ্ণ মাইকের গানের সুরে সুরে
বিষুব অরণ্যের বিমান
অপমানিত মানুষের বিমান
ডানা মেলে ওড়ে।”

অনেক ছোটবেলায় পড়া প্রবাদবাক্যের মতোই মুখস্থ করতে থাকি যে ‘এভরি ক্লাউড হ্যাজ এ সিলভার লাইনিং’, কোথাও তো শেষ হবে এই বিষণ্ণতা। কলমের এই এক অবিশ্বাস্য শক্তি আছে, অনাবশ্যক ভয়ের আর শঙ্কার প্রহর গুনে গুনেও কলম থামে না। স্রষ্টা, সৃষ্টি এই দুইয়ের সামগ্রিক মেলবন্ধনে ‘ডানা মেলে ওড়ে’। হ্যাঁ, তবে শুধুমাত্র অপমানিত মানুষের বিমান নয়, ওড়ে ভালোবাসা, নিশ্চিন্ততা, নির্দিষ্টরূপে বর্ণিত মানুষের বেঁচে ওঠার, জেগে থাকার গান হয়ে, উড়তেই থাকে, জোড়-বিজোড় সংখ্যা-সমাধানের ক্যাকোফোনি ধুলোয় মিশিয়ে উড়তেই থাকে। আমরা দুর্বিপাকের ভিন্ন এবং ভিন্নতর রূপ দেখতে পাই, কিন্তু সুখস্মৃতি রোমন্থনে বাধাপ্রাপ্ত হইনা। কবিতার প্যালেটে, গল্পের আল্পনায়, প্রবন্ধের মাধুর্য্যে বেঁচে থাকার রসাস্বাদনকে মৃত্যু তখন বড়ই তির্যকরূপে দেখে। ঘাস ছিঁড়ে ছিঁড়ে মাটির প্রলেপে আলাদা করে মন শক্ত করতে হয় না, পশ্চিমের আকাশে ফ্লেমিংগো ডানার ঝলকানি বলে দেয় যে গন্ধ, স্পর্শ, দৃষ্টি, শ্রবণশক্তি সব আগের মতোই তো আছে, এই তো এখানেই, শুধু অপেক্ষা হৃদয় দিয়ে চিনে নেবার।

‘আলেখ’ ৩০শে মে বিশেষ সংখ্যায় আমরা যাঁদের লেখা পেলাম, তাঁরা পথপ্রদর্শক, তাঁদের লেখনীতে সমৃদ্ধ হলো আলেখের পথচলা। টিম আলেখের পক্ষ থেকে আন্তরিক শ্রদ্ধা এবং শুভেচ্ছা রইলো। সম্পূর্ণ লিঙ্ক নিচে দেওয়া।

‘আলেখ’ ১৫ই জুন সংখ্যার জন্য লেখা/ আঁকা/ ফটোগ্রাফ গ্রহণ করা হচ্ছে। মেইল করুন: penprintspublication@gmail.com

By Alekh

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *